“ভালো ইমেজ” বা ”খারাপ ইমেজ’’ এর আড়ালে
রুখসানা কাঁকন ।। আমাদের সমাজে এখনও একটা বিপজ্জনক ভুল বিশ্বাস টিকে আছে – যে মানুষ যত শান্ত, ভদ্র, কম কথা বলে এবং “ভালো মুখ” নিয়ে ঘোরে, সে ততটাই ভালোমানুষ। বিশেষ করে পুরুষদের ক্ষেত্রে এই ভ্রান্ত ধারণাটা ভয়ংকর। কারণ এই “ভদ্র ইমেজ” অনেক সময় ঢাল হয়ে দাঁড়ায়, যার আড়ালে লুকিয়ে থাকে নিয়ন্ত্রণ, ম্যানিপুলেশন, নির্যাতন এমনকি ধ্বংস।
একজন পুরুষের আসল চরিত্র কখনোই ধরা পড়ে না কথা বলার ভঙ্গিতে, সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্টে, বা পাবলিক ইমেজে। তার আসল চেহারা দেখা যায় তখন, যখন সে একজন নারীর সঙ্গে একই ঘরে থাকে, যখন কেউ দেখছে না, যখন সে ক্ষমতাবান। তখন বোঝা যায় সে সম্মান করে নাকি শাসন করে, ভালোবাসে নাকি দখল করতে চায়।
সমাজ কিন্তু এই নীরব, শান্ত, ‘ভালো ছেলে’ টাইপ পুরুষদের সহজেই বিশ্বাস করে। আর সেই বিশ্বাসের মূল্য দিতে হয় নারীদের। যখন কোনো নারী বলে – “সে আমাকে কন্ট্রোল করত”, “সে আমাকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছে” – তখন সমাজ প্রশ্ন তোলে, “কিন্তু সে তো এত ভদ্র!” এই একটি বাক্যেই নারীর সব অভিযোগ বাতিল হয়ে যায়।
এটাই প্যাট্রিয়ার্কির সবচেয়ে চালাক ব্যাপার।
আবার নারীদের ক্ষেত্রে উল্টো নিয়ম কাজ করে। একজন নারী যদি আলাদা স্টাইলে বাঁচে, নিজের মতো করে চুল রাখে, পোশাক পরে, বা সমাজের “ভালোমেয়ে”র ছাঁচে না ঢোকে, তাকে সহজেই চরিত্রহীন, বিপজ্জনক বা সন্দেহজনক বানিয়ে ফেলা হয়। অথচ বাস্তবতা হলো – একজন নারীর নৈতিক চরিত্র তার ওড়না, চুল বা ইনস্টাগ্রাম পোস্টে লেখা থাকে না।
পুরুষদের মতো আবার অনেক নারীও আছেন, যারা খুব ‘সাদাসিধে’, খুব ‘ভদ্র’ ইমেজ ধরে রাখেন, কিন্তু তারাই যে কারুর ক্ষতি করেন, দেশ ও সমাজের অনিষ্ঠ করেন, চারিপাশের সবার মানসিক অশান্তির কারণ হন, এমনকি অন্যের জীবন ধ্বংসও করেন। চেহারা এখানে কিছুই প্রমাণ করে না।
বাস্তবতা আমাদের শেখায়, মানুষকে তার কাজ দিয়ে বিচার করো, তার মুখ দিয়ে নয়।
নারীরা যেন আর কখনো এমন সমাজে না বাঁচে, যেখানে একজন পুরুষের “ভালো ইমেজ” তার অপরাধ ঢেকে দেয়।
আর কোনো নারী যেন তার পোশাক বা স্টাইলের কারণে নিজের যন্ত্রণার কথা বলার অধিকার হারিয়ে না ফেলে।
[ফেমিনিস্ট ফ্যাক্টরে প্রকাশিত মুক্তমত লেখকের নিজস্ব বক্তব্য]

