April 23, 2026
ফিচার ২সাক্ষাৎকার

তারানা বার্ক: বর্ণবৈষম্য থেকে মিটু লড়াই-কী তাঁকে শক্তি জোগায়

নারীবাদী অ্যাক্টিভিস্ট তারানা বার্ক- এর সাক্ষাৎকারটি নিয়েছিল টাইম ম্যাগাজিন, ২০২৫ এর ১লা মে। ফেমিনিস্ট ফ্যাক্টরের পাঠকদের জন্য
সাক্ষাৎকারটি
বাংলায় অনুবাদ করে দেওয়া হলো 

যদিও তিনি #MeToo আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে সবচেয়ে বেশি পরিচিত, তবে তারানা বার্ক সারাজীবনই ন্যায়ের জন্য লড়াই করে আসছেন। যৌন সহিংসতার শিকার মানুষদের পাশে দাঁড়ানো ছাড়াও, নব্বইয়ের দশকে কলেজছাত্রী থাকাকালে তিনি পুলিশি নির্যাতনের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ করেছিলেন। কিন্তু ২০২০ সালের গ্রীষ্মে ব্রিওনা টেলর ও জর্জ ফ্লয়েডের হত্যাকাণ্ডের পর যে প্রতিবাদ আন্দোলন শুরু হয়, সেটাকে তিনি আলাদা মনে করেন। সে সময় টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বার্ক বলেন, “মনে হয়েছিল যেন পুরো বিশ্ব হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে। সবাই যুক্ত হচ্ছিল। কারণ এটা শুধু একটা দেশের সমস্যা না, এটা একটা বৈশ্বিক সমস্যা।” এখন, পাঁচ বছর পর, তিনি ভাবছেন ২০২০ সালের সেই সময়ের পর কী হয়েছে, আর কেন বর্ণ ও লিঙ্গভিত্তিক ন্যায়ের লড়াইয়ের ধারাবাহিকতায় ২০২০ অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের অংশ।

প্রশ্ন: পাঁচ বছর আগে মে মাসে, জর্জ ফ্লয়েডের ঘটনার কথা যখন প্রথম জানলেন, তখন আপনার মনে কী চলছিল?

তারানা বার্ক: ২০২০ সালের আগেই কালো মানুষদের ওপর প্রকাশ্য সহিংসতার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে খুব সাধারণ হয়ে গিয়েছিল। তাই আমি এসব ভিডিও না দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। জর্জ ফ্লয়েডের ঘটনাটা প্রথমে বড় খবর ছিল না। কয়েকজন বন্ধু বলল, “এই ভিডিওটা দেখেছ?” আমি বললাম, “না, আমি এসব দেখতে চাই না।” তারা বলল, “এইটা তোমাকে দেখতেই হবে।” আমি দেখলাম, আর সবচেয়ে যেটা আমাকে ভেঙে দিয়েছিল, সেটা হলো—তিনি তাঁর মাকে ডাকছিলেন। আমি তখনই ভিডিও বন্ধ করে দিলাম। একদম ভেঙে পড়েছিলাম। মাইক ব্রাউনের মতো – রাস্তায় পড়ে থাকা তাঁর সেই ছবিটা এখনো আমার মাথায় গেঁথে আছে।

প্রশ্ন: ২০২০ সালের এই ঘটনাগুলোর পর যে বড় পরিবর্তনের সময় এল, আপনি কীভাবে দেখেছেন? কোনো প্রতিবাদে অংশ নিয়েছিলেন?

বার্ক: ২০২০ খুব বড় ছিল, কিন্তু আমি সবসময় এটাকে ২০১৪ সালের ফার্গুসনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখি। অনেক সময় মনে হয়, আমরা দুইটা আমেরিকায় বাস করি। একটা হলো কালো মানুষের আমেরিকা, যেখানে আমাদের জীবনের ঘটনাগুলো খুব গভীরভাবে লাগে। বাইরে থাকা মানুষদের সঙ্গে কথা বললে বুঝি, তাদের অনেকেরই এসবের কোনো ধারণা নেই।
আমার কাছে ২০২০ একটা ধারাবাহিকতার অংশ। যেসব সংগঠন এই আন্দোলনের পেছনে ছিল, যেমন ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার, তারা কখনো থামেনি। তখন বড় বড় জমায়েতের চেয়ে স্থানীয়ভাবে কাজ, কৌশল বানানো, রাজনীতিবিদদের নির্বাচিত করানোর মতো কাজ চলেছে।
২০২০-এর প্রতিবাদগুলো দেখা আমার জন্য সুন্দর এক মুহূর্ত ছিল, একজন নাগরিক অধিকার আন্দোলনের শিক্ষার্থী হিসেবে, ন্যায়ের আন্দোলনের ছাত্র হিসেবে। দুঃখের বিষয়, জর্জ ফ্লয়েড ও ব্রিওনা টেলরের ঘটনার ওপর ভর করে এটা হয়েছে। অনেকেই ভাবে, একটা হ্যাশট্যাগ ভাইরাল হলো, একটা “নতুন আন্দোলন” জন্ম নিল, তারপর মিলিয়ে গেল। তাই তারা ভাবে ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার এসেছিল, তারপর হারিয়ে গেছে। আসলে তা নয়।
আমি খুব উৎসাহিত হয়েছিলাম। অনেকের সঙ্গে কথা বলে পরিকল্পনা করেছি যেন সেই সময়ে কিছু কাজ এগোয়। আমার ২০-এর ঘরের একটি সন্তান আছে, আর এক ভাতিজা – দুজনই রাস্তায় খুব সক্রিয় ছিল। এটা আমাকে বিশ্বাস করিয়েছে যে আরও অনেক কিছু সম্ভব।

প্রশ্ন: ২০২০ সালে আপনি টাইমকে বলেছিলেন, আপনি নব্বইয়ের দশক থেকেই পুলিশি নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে আসছেন। এবার কী আলাদা মনে হয়েছিল?

তারানা বার্ক: এবার মানুষরা পুলিশি সহিংসতাকে বড় কাঠামোগত সমস্যা – বর্ণবৈষম্য আর অবিচারের সঙ্গে জুড়ে দেখতে শুরু করেছিল। নব্বইয়ের দশকে আমাদু ডায়ালো, অ্যাবনার লুইমা, এলেনর বাম্পার্স – এমন অনেক ঘটনা ঘটেছিল। তখন সোশ্যাল মিডিয়া ছিল না, তাই ঘটনাগুলো আলাদা আলাদা মনে হতো। আমার মাথায় এটা খুব নিউইয়র্ককেন্দ্রিকই ছিল।
কিন্তু জর্জ ফ্লয়েডের ঘটনায় মনে হলো, সারা পৃথিবী হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে। সবাই যুক্ত হচ্ছিল। কারণ এটা শুধু একটা দেশের সমস্যা না, এটা বৈশ্বিক সমস্যা। যুক্তরাষ্ট্র অনেক সময় নিজেকে বিশ্বের বাইরে ভাবতে চায়, যেন অন্য জায়গায় যা ঘটে, এখানে তা ঘটতে পারে না। আর এখানে ঘটলেও, সেটা নাকি “সিস্টেমিক” নয়, শুধু আলাদা ঘটনা। তাই এটা যখন বিশ্বব্যাপী ইস্যু হয়ে উঠল, সেটা নব্বইয়ের অভিজ্ঞতা থেকে একেবারেই আলাদা ছিল। মানুষ বুঝতে শুরু করল, পুলিশের সামরিকীকরণ (মিলিটারাইজেশন) কারও জন্যই ভালো না।

প্রশ্ন: ২০২৫ থেকে ফিরে তাকিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণসমতার লড়াইয়ে আমরা এখন কোথায় দাঁড়িয়ে?

বার্ক: আমার দৃষ্টিভঙ্গি এখন বড়। সংকীর্ণভাবে দেখলে অবস্থা খুব খারাপ, কাজ করা কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ মনে হয়। কিন্তু আমরা শুধু এই মুহূর্তে বাঁচি না। তাই আমি সবসময় আন্দোলনের দীর্ঘ পথের কথা বলি। আন্দোলন দীর্ঘ হয়। নাগরিক অধিকার আন্দোলনকে আমরা সাধারণত ১৯৫৪ থেকে ১৯৬৮ পর্যন্ত ধরি – ব্রাউন বনাম বোর্ড অব এডুকেশন থেকে ড. মার্টিন লুথার কিং-এর মৃত্যু পর্যন্ত। কিন্তু তার আগেও অনেক কিছু হয়েছে, আর তাঁর মৃত্যুর পরেও হয়েছে। যেমন ১৯৬৮ সালে ফেয়ার হাউজিং অ্যাক্ট পাস হয় – কিং-এর মৃত্যুর পরেই।
ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার সেই আগুনটা বহন করছে। যে বীজটা বোনা হয়েছিল, সেটাই এখন নানা সংগঠন বয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এই দৃষ্টিতে দেখলে বুঝি অনেক কাজ চলছে। আর আন্দোলন মুহূর্তকে ছাড়িয়ে টিকে থাকে – এটাই প্রথম কথা।
দ্বিতীয় কথা, আশা ছাড়া এই কাজ করা যায় না। আমি বিশ্বাস করি, অশুভ আর অবিচার টেকসই নয়। আমেরিকা অনেক দিন ধরেই দমনমূলক ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে চেয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে প্রতিরোধও চলেছে। কোনটা বেশি শক্তিশালী জানি না, তবে দমন আর প্রতিরোধের লড়াই সবসময় চলেই।
তৃতীয়ত, যখন মানুষ মরছে, বিশেষ করে লড়াইয়ের সময়, তারা আরও জোরে, আরও মরিয়া হয়ে লড়াই করে। এখন যা খুব নিষ্ঠুর ও অমানবিক লাগছে, তার নকশাকাররা ৩০–৫০ বছর আগেই বুঝেছিল – এই দেশকে শুধু সাদা রেখে দেওয়া যাবে না, দেশ আরও বাদামি (বর্ণবৈচিত্র্যময়) হবে। মানুষের জীবনের অভিজ্ঞতাকে চেপে রাখা যাবে না, তাই সমাজ আরও কুইয়ার ও বৈচিত্র্যময় হবে। মানুষ সময়ের সঙ্গে বুদ্ধিমান হয়, আর যত বুদ্ধিমান হয়, ততই মুক্ত হতে চায়। এটা থামানো যায় না। তাই তারা যা-ই করুক, আমেরিকার ভবিষ্যৎ হবে বর্ণবৈচিত্র্যময় আর রংধনুতে মোড়া।

প্রশ্ন: সামাজিক পরিবর্তনের জন্য লড়াই করা মানে দীর্ঘ দৌড়ের খেলা। এই সময়ে আপনি কীভাবে নিজের প্রেরণা আর শক্তি ধরে রাখেন?

তারানা বার্ক: আমি সত্যিই কালো মানুষদের ভালোবাসি। খুব গভীরভাবে। আমার প্রতিটি অংশ দিয়ে, আমার অস্তিত্বের প্রতিটি তন্তু দিয়ে। আমি মানুষকে ভালোবাসি। আমি মানবতাকে ভালোবাসি। আর আমি কৃতজ্ঞ যে এই জীবনটাই আমি পেয়েছি। এই কাজটাই করার সুযোগ পেয়েছি।
আমাকে অনুপ্রাণিত করে, আশাবাদী রাখে এটা দেখা যে সব স্টেরিওটাইপ আর কথা সত্ত্বেও আমরা একে অপরের পাশে থাকি। যখন সময়টা খুব কঠিন হয়ে যায়, তখন আমরা একে অপরের দিকে ফিরে যাই। এই বিষয়গুলোই আমাকে আশায় ভরিয়ে রাখে।
আমি জীবনের আরেকটা ধাপে ঢুকছি। এই ধাপে হয়তো আমি আর রাস্তায় থাকব না যেভাবে ২০, ৩০ বা ৪০ বছরে ছিলাম। কিন্তু আমার জায়গা আছে। আমার দেওয়ার মতো যা আছে, তারও জায়গা আছে।

প্রশ্ন: ২০১৭ সালে #MeToo আন্দোলন ভাইরাল হওয়ার পর আপনার জীবন বদলে যায়। অথচ আপনি তো অনেক বছর ধরেই এই কাজ করছিলেন। হঠাৎ করে জনজীবনে চলে আসার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

বার্ক: #MeToo ভাইরাল হওয়ার সময় আমার বয়স ছিল প্রায় ৪৪। আমি একজন মধ্যবয়সী কালো নারী, যিনি বেশিরভাগ সময় আন্দোলনের কাজে পর্দার আড়ালে ছিলেন। হঠাৎ করে সামনে চলে আসাটা আমার ব্যক্তিগতভাবে কোনো লক্ষ্য ছিল না। আমি “পরিচিত মানুষ” হতে চাইনি।
তাই সবাই যখন বলছিল, “এটাই তো সময়, এটা দারুণ,” তখন আমাকে এর ভেতরের মানে খুঁজে নিতে হয়েছে। কিন্তু আমার জন্য সবচেয়ে ভালো দিক ছিল – অগণিত কালো নারী, আর মোটের ওপর অনেক সারভাইভার এসে আমাকে বলেছেন, “আপনার কারণে আমি বুঝতে পেরেছি আমি একজন সারভাইভার।” “আপনার কারণে আমি আমার মায়ের সঙ্গে কথা বলতে পেরেছি।”
গতকালই এক নারী আমাকে বললেন, তিনি তার মা, খালা আর বোনের সঙ্গে কথা বলতে পেরেছেন নিজে সারভাইভার হওয়া নিয়ে, আর তাদের সঙ্গেও কী হয়েছিল সেটা নিয়ে।
সারা পৃথিবীজুড়ে এমন অনেক সারভাইভার আছেন, আর আমরা এখনো একে অপরের সঙ্গে যুক্ত। আমাদের কাজের বড় অংশ হলো গল্পের দৃষ্টি সরানো—ক্ষতি করা মানুষদের থেকে, ক্ষতি পাওয়া মানুষদের দিকে—আর কীভাবে সেই ক্ষতি থামানো যায়। একজন পাবলিক ফিগার হিসেবে আমার অভিজ্ঞতা মূলত এই কাজেই নিবেদিত।

প্রশ্ন: ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার (BLM) আর #MeToo প্রায় একই সময়ে বিস্ফোরণের মতো ছড়িয়ে পড়ে। এই দুটির মধ্যে মিল কী? লিঙ্গ ন্যায়ের লড়াই কীভাবে বর্ণ ন্যায়ের সঙ্গে যুক্ত?

বার্ক: অনেক কালো নারীই একই প্রশ্নের ভেতর থাকেন – আমি আগে কালো, না আগে নারী? এই দ্বন্দ্বটা তাদের জীবনে খুব বাস্তব।
যখন ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার ছড়িয়ে পড়ে, তখন মানুষের চোখে দেখার মতো প্রমাণ ছিল – রাস্তায় পড়ে থাকা দেহ, ভয়াবহ ঘটনার ভিডিও। মানুষ সক্রিয় হওয়ার জন্য দৃশ্যমান প্রমাণ পেয়েছিল।
কিন্তু #MeToo ভাইরাল হওয়ার সময় এটা শুরু হয়েছিল তারকাদের দিয়ে, তারপর সাধারণ মানুষ নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে শুরু করে। কিন্তু সেটা এমন কিছু ছিল না যা মানুষ চোখে দেখে বুঝতে পারে।
#MeToo ভাইরাল হওয়া মানে ছিল, নারীরা (যদিও সারভাইভার সব লিঙ্গের মানুষই হন, তবু বেশিরভাগই নারী) এতদিন যে আঘাত বয়ে বেড়াচ্ছিলেন, সেটার স্বীকৃতি পাওয়া। একইভাবে, ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার ভাইরাল হওয়া মানে ছিল – কালো মানুষরা বলছিলেন, “হ্যাঁ, এটাই পুলিশি সহিংসতা। এটাই আমেরিকায় বর্ণবৈষম্য।”
কিন্তু এখানে একটা মিলনবিন্দু আছে, যেটা আমরা খুব কমই বলি। আপনি যদি কালো নারী হন, তাহলে আপনি পুলিশি নির্যাতনও পেতে পারেন, আবার যৌন সহিংসতার শিকারও হতে পারেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ – পুলিশি নির্যাতন। দ্বিতীয় নম্বর অভিযোগ – পুলিশের যৌন সহিংসতা (২০২০ সালের পেন স্টেট স্টাডি অনুযায়ী)। তাহলে এই দুইয়ের মিল কোথায় বলে মনে হয়? তার মানে কালো নারীরা পুলিশের হয়রানির শিকার হন।
আমরা প্রকাশ্যে কিছু মামলাও দেখেছি – ড্যানিয়েল কেন হোল্টজক্ল’ নামে এক পুলিশ অফিসার, যিনি ১৩ জন কালো নারীকে ধর্ষণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। প্রমাণ আছে। কিন্তু এই বিষয়টা নিয়ে তেমন কথা হয় না।

প্রশ্ন: যেসব তরুণ-তরুণী আপনার পথ অনুসরণ করে আন্দোলনে আসতে চায়, তাদের আপনি কী বলতে চান?

তারানা বার্ক: প্রথমেই আমি তরুণদের বলব – আমার ভুলগুলো খুঁজে দেখো। যেখানে অসঙ্গতি দেখো, যেখানে মনে হয় আমি আরও ভালোভাবে পাশে দাঁড়াতে পারতাম কিন্তু পারিনি, সেগুলো খেয়াল করো। যেগুলো তোমার চোখে পড়ে, সেখান থেকে শেখো। যা করা হয়নি, তার ওপর গড়ে তোলো। যা রয়ে গেছে, সেটাকে এগিয়ে নাও।
অ্যাক্টিভিজম কোনো জাদু নয়, আর আমরা সুপারহিরোও না। আমি প্রতিদিন চেষ্টা করি যতটা পারি ভালো করতে। একটু বেশি শিখতে, একটু বেশি চাপ দিতে, একটু বড় হতে। আমি আশা করি আমি এতে সফল হব। আর তরুণরা যেন জানে, আমি তাদের ভালোবাসি, তাদের পক্ষে আছি; আর তারা ভালোবাসা দিয়ে আমাকে প্রশ্ন করুক, ঠিক করুক – এটাই আমি চাই।
নিজের ওপর ভরসা রাখো। হয়তো কোনো ধারণা কাজ করবে না, তাতে সমস্যা নেই। তরুণরা, বিশেষ করে বর্ণবৈচিত্র্যের তরুণরা আর বিশেষ করে কালো শিশুরা, তাদের শেখা দরকার যে ভুল করেও এগোনো যায়। নিজের অন্তর্দৃষ্টি, নিজের অনুভূতি, নিজের হৃদয়ের কথা বিশ্বাস করো।
সংগঠিত হওয়া মানে সবসময় ২০২০-এর মতো বিশাল আন্দোলনই হতে হবে না। সংগঠিত হওয়া মানে তুমি আর তোমার তিন বন্ধু স্কুলের পরে বসে কথা বলছ, কোনো একটা বিষয় তোমাদের জীবনে কীভাবে প্রভাব ফেলছে। সব সময় নতুন চাকা আবিষ্কার করতে হবে না। সব সময় ঘরের সবচেয়ে বড় কণ্ঠস্বর হতে হবে না।

প্রশ্ন: প্রজন্মের পর প্রজন্ম একসঙ্গে কাজ করার গুরুত্ব কী?

বার্ক: প্রজন্মের মধ্যে সংযোগের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু নেই। আমি জেন এক্স প্রজন্মের। আমরা যারা ৩০ বছর ধরে এই কাজ করছি, তারা আগের প্রজন্ম থেকে শিখেছি, যেমন আমি নাগরিক অধিকার আন্দোলন আর ব্ল্যাক পাওয়ার আন্দোলনের মানুষদের কাছ থেকে শিখেছি। এই অভিজ্ঞতা আমাদের পরের প্রজন্মকে দিতে হবে।
ইন্টারনেটের ছোট ছোট ক্লিপ, উদ্ধৃতি বা সাউন্ডবাইটে এটা শেখা যায় না। মানুষে মানুষে কথা বলতে হয়। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়াতে হয়, একসঙ্গে হাঁটতে হয়, আর একে অপরের কাছ থেকে শিখতে হয়।
একই সঙ্গে, যারা এখনো কাজ করছি, আমাদেরও তরুণদের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। তাদের কথা শুনতে হবে, তারা কে – তা বুঝতে হবে। আমরা কেন এই কাজ শুরু করেছিলাম, এটাই তার মূল কথা।
কখনো কখনো বড়রা তরুণদের এমন ভাবে – যেন তারা ২০৯৯ সালের কোনো দূরের মানুষ। না, তারা এখনই এখানে। এই জ্ঞান কারও সঙ্গে তো থাকতে হবে। আর আমাদের নতুন তাজা জ্ঞানও দরকার।

Leave a Reply