April 23, 2026
সম্পাদকীয়

খোমেনির ইরানের নারী: অর্ধেক মানুষ, অথবা মানুষই না

ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ইতিহাস এক দীর্ঘ নারী নির্যাতনের ইতিহাস। ১৯৭৯ তে বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে খোমেনির নেতৃত্বে যে শরিয়া আইন হয়েছে, তা পরিণত হয়েছে নারীর শরীর, জীবন ও নাগরিক অধিকার নিয়ন্ত্রণের রাষ্ট্রীয় অস্ত্রে। বাধ্যতামূলক হিজাব ছিল এই প্রকল্পের প্রথম ও সবচেয়ে দৃশ্যমান প্রকাশ। নারী কী পরবে, কীভাবে চুল ঢাকবে, কতটুকু গলা বা কবজি দেখা যাবে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার নারীর কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়। নৈতিকতা পুলিশের মাধ্যমে নারীর শরীরকে প্রতিনিয়ত নজরদারি, শাস্তি ও অপমানের আওতায় আনা হয়।
শরিয়া আইনে নারী অর্ধেক মানুষ। খোমেনির শরিয়া আইনে নারীর পুরুষের সমান নাগরিক স্বীকৃতি নেই।
আদালতে নারীর সাক্ষ্য অর্ধেক, উত্তরাধিকারে অধিকার অর্ধেক, রক্তমূল্যে জীবনের দাম অর্ধেক।
আইনের ভাষাতেই ঘোষণা করা হয়েছে – নারীর জীবন কম মূল্যবান। খোমেনির শাসনে বিপ্লবের আগের ইরানের প্রগতিশীল পারিবারিক আইন বাতিল করা হয়। চালু হয় শিশুবিবাহ। শুরু হয় পাথর নিক্ষেপে হত্যা, বেত্রাঘাত, প্রকাশ্যে অপমান।

হ্যাঁ, ইরানের নারীরা প্রতিবাদ করেছে। নানা সময়ে। আর রাষ্ট্রের জবাব ছিল গ্রেপ্তার, নির্যাতন।

নারীর বিরুদ্ধে এই ইতিহাস কেবল ইরানের নয়। ধর্ম, রাষ্ট্র ও পুরুষতন্ত্রের এই মেলবন্ধন যেখানেই ঘটে, সেখানেই নারীর স্বাধীনতা প্রথম নিশানা হয়।

এই ইতিহাস মনে রাখা খুব খুব জরুরি।

Leave a Reply